নিজস্ব প্রতিবেদক।।

লামায় উপজেলায় ১০০ একর জুমের অগ্নি সংযোগের ফলে সরই ইউনিয়নে ৮নং ওয়ার্ডের অবস্থিত লাংক ম্রো , রেংয়াং ও জয় চন্দ্র ত্রিপুড়া পাড়ার এলাকায় খাবার সংকটে দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রিপুড়া পাড়ার গ্রাম প্রধান (কারবারী) জয় চন্দ্র ত্রিপুড়া। খাবার সংকটের পাশাপাশি ওই তিন গ্রামের এলাবাসীর আতংঙ্কে বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।

গ্রাম প্রধান (কারবারি) জয় চন্দ্র ত্রিপুড়া জানিয়েছেন, ১০০ একর পাহাড়ের জুড়ে জুমে অগ্নি সংযোগ দেয়ার কারণে জুমের ধান, আনারস, কলা সহ বিভিন্ন ফলমুলের বাগান ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার কারণে খাদ্য সংঙ্কটে চিন্তায় পরেছেন পাড়াবাসী। শুধু তাই নয় এলাকায় অপরিচিত যে কাউকে দেখলে আতংঙ্কে থাকেন বলে জানান।

ম্রো পাড়া কারবারী লাংক ম্রো জানান, রেংয়াং, লাংক ম্রো , ও জয় চন্দ্র ত্রিপুড়া ওই তিন পাড়া পরিবার সংখ্যা ৩৯টি পরিবার। এই তিনটি গ্রামে জনসংখ্যা মাত্র ২শত ৫০ জন। ম্রো আর ত্রিপুড়া দুই জনগোষ্ঠি বসবাস। লামার রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড পরিচালক কামাল উদ্দীন দলবল নিয়ে জুমের আগুন দেয়া পর গ্রামের মানুষদেরকে খুন ও মারার হুমকি প্রদানের কারনে ভয়ে বের হচ্ছেন নাহ এলাকারবাসী। যার ফলে দিন দিন আতংঙ্কের মধ্য দিয়ে খাবার সংকটে দেখা দিয়েছে।

গ্রামবাসিরা জানিয়েছেন, লামার রাবার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড শ্রমিক দলবদ্ধভাবে ১০০ একর জুড়ে জুম পাহাড়ের অগ্নিসংযোগ দিয়েছে সেসব স্থানে জুমের ৪টি বসতঘর, কলা গাছ ১০ হাজার, আনারসের বাগানের চারা ৮০ হাজার, আপেলকুল ও দেশীয় বরই গাছ ৫ হাজার, ৬ একর জুড়ে কাঁচা- পাঁকা ধানসহ প্রাকৃতিক প্রানীর ও বিভিন্ন ছোট ছোট গাছ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় কে বা কখন আক্রমণ করবে সে আতংঙ্ক নিয়ে গ্রামের মানুষরা রাতের বেলাও সজাগ থাকেন। তবে এর প্রতিকার আশায় রয়েছেন সেসব এলাকায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠির।

গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জুমের ফসলি চাষ করতে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে লোন নিয়েছে প্রায় ২০ টি পরিবার। সেখানে কেউ নিয়েছেন ১০ হাজার আবার কেউ ২০-৩৫ হাজার টাকা লোন নিয়ে জুমের বাগান শুরু করেছিল। সেসব পরিবারের জুমের সব কিছু পুড়ে যাওয়াতেই ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতি সম্মুক্ষীন হয়ে পড়েন। যার ফলে এখন অর্থ সংকট সহ খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান গ্রামবাসীরা।

লাংকং ম্রো পাড়া বাসিন্দা হারমেতি ত্রিপুরা (৫৫) বলেন, আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। ঘরের দিন দিন খাবারের সংকট ও অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। খাবারের সাথে পানি সংকটে পড়েছি। এভাবে হলে আমরা যাবো কোথায়?

সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো, ইদ্রিছ কোম্পানি জানান, ঈদের আগের দিন তিন পাড়াবাসিদের ২৮ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাউল দেওয়া হয়েছে।

লামা উপজেলার চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রত্যেক এলাকায় খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে। তবুও ঈদের পর ঐসব গ্রামের খোজ নিয়ে দেখব।

Related Post

বান্দরবানে দেড় লক্ষ ইয়াবা ধ্বংস করেছে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

Posted by - মার্চ ২৭, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক।। গেল ফেব্রুয়ারী ও চলতি মাসসহ বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় আইনশৃঙখলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।…

ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ৬।

Posted by - মার্চ ১৬, ২০২২
বান্দরবান প্রতিনিধিঃ বান্দরবান-রুমা সড়কে গাছ বোঝায় ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোঃ জাবেদ (২৯) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় চালকসহ…

বান্দরবানে সদর দপ্তর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন।

Posted by - ডিসেম্বর ২১, ২০২১
বান্দরবান প্রতিনিধিঃ বান্দরবানে সদর দপ্তর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ডিসেম্বর) দুপুরে কেক কেটে এর…
logo

আজ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৩৮ তম মৃত্যু বার্ষিকী

Posted by - নভেম্বর ১০, ২০২১
  নিউটন চাকমা,  কাউখালীঃ  পার্বত্য চট্টগ্রামের ১০ ভাষাভাষি ১১টি জাতিসত্ত্বাদের অবহেলিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষণ বঞ্চনা, বাস্তুভিটে হারা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষের…

Leave a comment

Your email address will not be published.