নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্র নীলাচলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।

এ জেলার ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও জীবনধারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার বিকাল ৪টায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

উদ্বোধনকালে বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, একাত্তরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কারনে স্বাধীনতা পেয়েছি। পঞ্চাশ বছরে এসে সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পারছি। বঙ্গবন্ধু, যার জন্ম না হলে সবাই মিলে এই মিলনমেলায় একত্রিত হতে পারত না। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক সেই বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাই। ‘‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে যারা একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবনবাজি রেখে অংশ নিয়েছিলেন, সেই মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ হয়েছিলেন। ২ লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজকের বাংলাদেশ পেয়েছি, পরিচয় পেয়েছি, ভৌগোলিক অবস্থান পরিচয় পেয়েছি ও মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি।’’

মন্ত্রী বীর বাহাদুর আরও বলেন, পরবর্তীতে একাত্তরের পরাজিত শক্তি, যারা নিজের মাকে মা ডাকার সুযোগ দিতে চায়নি। যারা স্বাধীনতার অর্জনকে লুন্ঠিত করতে চেয়েছিল, সারা বিশ্বে আমার পরিচয় বাঙালি জাতির যে পরিচয়কে যারা দিতে চায়নি- একাত্তরে সেই পরাজিত শক্তিরা সজাগ রয়েছে। ‘‘সেই পরাজিত শক্তিরা পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে যারা জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পরবর্তীতে সেই জাতীয় চার নেতাকেও নির্মমভাবে হত্যা করে।’’

জেলা প্রশাসনের এ আয়োজনকে প্রশংসা করে মন্ত্রী বীর বাহাদুর বলেন, সারাদেশ থেকে আগত পর্যটক অতিথিদের স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার জন্য জেলা প্রশাসন চমৎকার একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে এবং দেশের বাইরে সংস্কৃতি মেলবন্ধন ছড়িয়ে পড়বে। পর্যটকদের আগামীতেও পার্বত্য চট্টগ্রামে ইতিহাস সম্পর্কে জানতে তাদের ছেলেমেয়ে ও আত্মীস্বজন নিয়ে বেড়াতে আসার আহবান তিনি।

উদ্বোধন শেষে পর্যায়ক্রমে মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, খিয়াং, চাক, খুমী, লুসাই, পাংখোয়া ও বাঙালি মিলে ১২টি জাতির বিভিন্ন গান পরিবেশন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর্ব পরিচালন করেন মারমা শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি চথুইপ্রু মারমা।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি জানিয়েছেন, এবার থেকে পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের কাছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সংস্কৃতি তুলে ধরতে প্রতি শুক্রবার জেলা প্রশাসনের প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানে ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালিসহ ১২টি জাতির বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের মুখ্য নিবার্হী কর্মকতার্ এটিএম কাউছার, বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কোরবান আলী ও সিভিল সার্জন অংসুইপ্রু মারমা উপস্থিত ছিলেন।

Related Post

রোয়াংছড়িতে ফাঁসিতে ঝুলে ছাত্রলীগ নেতার আত্মহত্যা।

Posted by - ডিসেম্বর ৯, ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বান্দরবানে রোয়াংছড়ি উপজেলায় চিরকুট লিখে অনিক তংচগ্যা (২৮) নামে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি…

বান্দরবানের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এই ঈদে, আশা ব্যবসায়ীদের

Posted by - এপ্রিল ২৯, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক।। ঈদ মানেই আনন্দ। এবার ঈদের ছুটিটা বেশ লম্বা। আর এ আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই ছুটেন বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। সেই ছুটিতে…

বান্দরবানে উদ্বোধন করা হলো বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য।

Posted by - ডিসেম্বর ১৬, ২০২১
নিজস্ব প্রতিনিধি;বান্দরবানঃ জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বান্দরবানে উদ্বোধন করা হলো জাতির…

বান্দরবানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত

Posted by - এপ্রিল ১৯, ২০২২
নিজস্ব সাংবাদদাতা।। “সমৃদ্ধি ও উন্নতির মুল শক্তি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ” এ-ই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত…

পাহাড়ীদের খাদ্য : বিলুপ্তির পথে কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও পোকা-মাকড়

Posted by - মার্চ ২০, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক।। পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অর্থের লোভে পড়ে কিছু অসাধুচক্র নির্বিচারে প্রকৃতি-ধ্বংসে মেতে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ঝিরি-ঝর্ণা থেকে…

Leave a comment

Your email address will not be published.